Read My Years in an Indian Prison by Mary Tyler Online

my-years-in-an-indian-prison

Memoir, Indian Studies, British Studies...

Title : My Years in an Indian Prison
Author :
Rating :
ISBN : 9780575022102
Format Type : Hardcover
Number of Pages : 391 Pages
Status : Available For Download
Last checked : 21 Minutes ago!

My Years in an Indian Prison Reviews

  • Pritom Ghum
    2018-11-02 20:27

    মেরি টাইলার ভারতে নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এই আগ্রহ ঠিক যে কারনে সাধারন ইউরোপিয়ানরা আগ্রহী হয় ভারত বর্ষ নিয়ে, সেই আগ্রহ না। ভারত আধ্যাত্মিক,গাঁজা, তন্ত্র মন্ত্র, নরবলির দেশ – এই রকম ধোঁয়াশা ধারণা ছিলো না টাইলারের। জানতেন ভারত সম্পর্কে, সাম্প্রতিক বিশ্বের খবর ও রাখতেন। তার সাথে পরিচয় হয়েছিলো অমলেন্দু সেন এর।পরিবার পূর্ববঙ্গের ,পার্টিশানের পর থেকে উদ্বাস্তু কলকাতায়। পশ্চিম জার্মানিতে অমলেন্দু তখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। আর মেরী টাইলার সেখানে গিয়েছিলেন বেড়াতে। সেখানেই পরিচয়। রাস্তায় বর্ণ বৈষম্যবিরোধী প্রচারণা চালাতে চালাতে প্রনয়। অতঃপর কলকাতায় এসে বিয়ে। অমলেন্দু গভীরভাবে দেশপ্রেমিক। পশ্চিমে থাকলে বেশ ভালো থাকতে পারতেন তিনি, সকল সুযোগই ছিলো,কিন্তু সে মায়া ছিন্ন করে দেশে ফিরে এলেন কিছু করার জন্য। তখন ১৯৬৮। নকশাল আন্দোলনের সময়। দুবছর পর মেরী টাইলার আসলেন ভারতে, উত্থাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। এর মাঝেই বিয়ে হল।বিয়ের পর পরেই - দরিদ্র ভারতবাসির জীবন কেমন তা দেখাতে অমলেন্দু মেরীকে নিয়ে গিয়েছিলেন পশ্চিম বঙ্গ আর বিহারের সীমান্তবর্তী একটা গ্রামে। পরিকল্পনাই ছিলো তারা সারা ভারত ঘুরবেন । কিন্তু পুলিশ সে দিন গ্রাম ঘেরাও করে একান্ন জন জন তরুন তরুনীকে নকশাল বলে চালান করে দেয়। তখন ১৯৭০। যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল, কেন্দ্রের শাসন এসেছে। নকশাল সন্দেহে ভয়াবহ রকম দমন নিপীড়ন চলছে চারদিকে। এই একান্ন জনের একজন মেরী টাইলার আর অমলেন্দু। ধরার পর পরেই তাদের আলাদা করে ফেলা হয়। হাজার অনুরোধের পরও মেরী আর কখনও অমলেন্দুকে দেখতে পান নি। একজন বিদেশী ধরা পড়েছে -সুতরাং “সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ষড়যন্ত্র করছে ভারত ধ্বংস করতে” এরকম খবরের শিরোনাম হলো। টাইলারের পাসপোর্টে যে সকল দেশ ছিলো, সে সকল দেশ থেকেই অস্ত্র এসেছে এরকম হাজার হাজার মুখরোচক খবরে ভরে গেলো সংবাদপত্র। পরে অবশ্য এ সব কিছু ইন্ডিয়ান হাইকোর্টে সব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তাকে ঘোষণা দিয়েছে, মেরী টাইলার নির্দোষ। কিন্তু ততদিনে পার হয়ে গেছে ৭ বছর! এই যে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সাত বছর বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি থাকা,অকথ্য নির্যাতন ভোগ করা, তারই অভিজ্ঞতা এই বই য়ে বর্ণিত। রাষ্ট্র একটা সোললেস মেশিন, সে বাইরে যতই সুন্দর আর সভ্য বলে গন্য হোক, তাকে চেনা যায় কারাগারে।বোঝা যায়, রাষ্ট্র কি সকলেরই রাষ্ট্র হতে পেরেছে কিনা। মিশেল ফুকো কারাগার নিয়ে তাই আগ্রহী ছিলেন, ইতিহাসে একসময়ে জনসম্মুখে শাস্তি কিভাবে কারাগারে দমন আর ডিসিপ্লিনে আত্মীকরণ হলো তা আগ্রহের বিষয় ছিলো তার। টাইলারের বর্ননায় যে কারাগারের বর্ণনা পাওয়া যায়, তা গা শিউরানো। তাতে কোন আইন নেই, যা আছে তা হলো জঙ্গলের আইন। যার ক্ষমতা তার রাজ্য। কয়েদীদের মধ্যে কাউকে বাছাই করে করা হয়েছে সর্দার, তার পর থেকে তার ভুমিকা জালিমের। নিয়মিত সেক্সুয়ালী হ্যারাসের শিকার হত বন্দিনীরা, ঘুষ তো আছেই। কেউ কোন নিয়ম ভঙ্গ করেছে এই কারনে নির্যাতন হত না, নির্যাতন করতেন ওয়ার্ডার রা এই কারনে যে, নির্যাতন করতে তাদের ভালো লাগে। নির্যাতন কে একটা ফেটিশ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই চার দেওয়ালের জঙ্গলে। এই বই ভারতের গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মেকাপ দেওয়া মুখের উপরে থাপ্পড়। এই থাপ্পড়ের প্রয়োজন ছিলো।